ভাঙনে বিপর্যস্ত ধানঘরায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ধ্বংসের চিহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদন: মুর্শিদাবাদের এক জ্বলন্ত সমস্যা নদী ভাঙন। বর্ষা এলেই বুক কাঁপে নদী পাড়ের মানুষদের। এবারেও রেহাই মিলল না। সামসেরগঞ্জের মানচিত্র থেকে একপ্রকার মুছে জেতে বসেছে গঙ্গা তিরবর্তি একাধিক গ্রাম। গঙ্গায় জল বাররা সাথে সাথে ভাঙনের তাণ্ডবও বাড়ছে। লাগাতার গঙ্গা ভাঙনে বসত ভিটে, জমি জায়গা- সর্বস্ব খুইয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ভাঙনে আজ বিপর্যস্ত ধানঘরা গ্রাম। দিনের আলো, বা রাতের অন্ধকার- ভাঙন চলছেই। ভেঙেই চলেছে নদী পাড়। ঘর বাড়ি, স্কুল, বাগান, সব আজ জলের তলায়। ভাঙনের ভয়ে ইটের পাকা বাড়ি ভেঙে ফেলেছেন সকলেই। অনেকেই গ্রাম ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়ি। এক ঝলক দেখলে মনে হবে- ধানঘরা গযেন কোন ধ্বংসস্তুপের আর এক নাম। মাথা গোঁজার ঠাই নেই, নেই কোন বিকল্প রাস্তা। সব হারিয়ে আজ কেমন আছেন ধানঘরা গ্রামের মানুষজন।

পরিবার পরিজন নিয়ে, যাযাবরের মতোই দিন কাটছে গ্রামবাসীদের। ইট পাথরের ভিড়ে পুরনো স্মৃতি হাতরে বেড়াচ্ছেন মেয়ে বধূরা। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে না পাড়ার কষ্টে আজ চোখের জলও শুকিয়েছে।

গ্রামবাসীদের মনে শুধুই আক্ষেপ। বহু প্রতিশ্রুতি মিলেছে। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা পরিদর্শনও করেছেন, কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা কিছুই হয় নি। গ্রামবাসীদের প্রশ্ন- এভাবে কত দিন? সব হারিয়ে কোথায় যাবেন তারা? গ্রাম জুড়েই শুধুই হাহাকার আর কান্নার রোল। অনেকেই বলছেন, কোন ত্রান জোটে নি, মেলেনি পুনর্বাসন, খোলা আকাশের নীচে দিন গুজরান ক্ষতিগ্রস্তদের।

সামসেরগঞ্জের ভাঙন নিয়ে বিতর্কও পছু ছাড়ছে না। একদিকে কেন্দ্র রাজ্যের তরজা, অন্যদিকে ফরাক্কা ব্যারেজ প্রজেক্ট কতৃপক্ষের সাফ কথা- তাদের এখতিয়ারের বাইরে এই কাজ। সব নিয়ে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ কেন্দ্র- রাজ্যের তরজায় বিরক্ত হয়ে চাইছেন পুনর্বাসন ও ক্ষতিপুরন।

রাজনীতির দাবানলে পিষে জেতে নয়, বাঁচতে চান ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষজন। রাজনীতির উরধে উঠে তাদের জন্য কিছু কড়া হোক, এই দাবিই তাদের।