ব্লক সভাপতি বদলাতে পঁচিশ লক্ষ ! বিধায়কের বিরুদ্ধে তোপ বনতোষের

রিয়া সেনঃ  বেলডাঙায়  গোষ্ঠী কোন্দলে বিপাকে তৃণমূল TMC  । শনিবার  সকালে বিধায়কের MLA  বাড়ির বাইরে ব্লক সভাপতি বদল চেয়ে বিক্ষোভ দেখান দলের নেতারা । পাল্টা  দলের বিধায়ক , পঞ্চায়েত সমতির সভাপতির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন বেলডাঙ্গা ১ উত্তরের  তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বনতোষ ঘোষ।

শনিবার সকালে  বেলডাঙার  বিধায়ক হাসানুজ্জামানের Beldanga MLA HASANUZZAMAN SK  বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ দেখান  দলের নেতা, কর্মীরা । ভাঙা হয়  চেয়ার !  পঞ্চায়েতের টিকিট লক্ষ, লক্ষ টাকায় বিক্রি করছেন ব্লক সভাপতি, অভিযোগ করলেন দলের নেতারাই ৷ বেলডাঙা-১ উত্তর ব্লক তৃণমূল সভাপতি বনতোষ ঘোষের Banotosh Ghosh  বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে বহিষ্কারের দাবীতে বিধায়কের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ  দেখালেন একাংশের তৃণমূল নেতা কর্মীরা । রাস্তায় ফেলে ভাঙ্গা হয় চেয়ার।

বেলডাঙ্গায় বিধায়কের বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ

ঘটনায় শনিবার সকালে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হল বেলডাঙায়। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বেলডাঙা উত্তর ব্লক তৃণমূল সভাপতি দুর্নীতি, তোলাবাজির সাথে যুক্ত। কাটমানি নিয়েছেন সরকারি টেন্ডারে।  বিক্রি করছেন পঞ্চায়েতের টিকিট।  এদিন প্রকাশ্যে বেলডাঙা উত্তর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বনতোষ ঘোষের বিরুদ্ধে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে  বেলডাঙ্গার বিধায়ক হাসানুজামানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভে সামিল হন  তৃণমূল নেতা কর্মীরা। এদিনের বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন বেলডাঙা ১ নম্বর ব্লকের ব্লক সভাপতি নজরুল ইসলাম। নজররুল ইসলাম বলেন, “ ব্লক সভাপতি নিজে দুর্নীতির সাথে যুক্ত। এখন থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত তিন লক্ষ টাকা লাগবে, পঞ্চায়েত সমিতিতে পাঁচ লক্ষ লাগবে, জেলা পরিষদে দশ লক্ষ টাকা লাগবে এই কথা বলা হচ্ছে।  এই সভাপতিকে বহিষ্কার করতে হবে। বিধায়ক ব্যবস্থা না হলে আরো তীব্র আন্দোলন হবে”।

বিধায়ক হাসানুজামান বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলেন। মাইক ধরে ভাষণও দেন।  বনতোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভের  সুর শোনা যায় বিধায়কের গলাতেও।  বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে তিনি জানান, বেলডাঙা উত্তরের ব্লক সভাপতি বনতোষ ঘোষ বেশ কিছু দিন ধরে দলীয় কর্মসুচিতে অংশ নিচ্ছেন না।  দলের মধ্যে বিভ্রান্তিকর ও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করছেন।

দলের কর্মীদের বার্তা দিচ্ছেন হাসানুজ্জামান

শনিবার হাসানুজ্জামান বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে নিখোঁজ ব্লক সভাপতিই। কাছের লোকেদের গুরুত্ব দেন তিনি। বাকিদের ব্যাডবুকে রাখেন। দলীয় রিপোর্টে পক্ষপাত করেছেন। পঞ্চায়েতে দুর্নীতি হয়েছে সেটাও মেনে নিয়েছেন বিধায়ক। সব দায়ই ঠেলেছেন বনতোষ ঘোষের দিকে।

বিধায়ক বলেন, “বক্ল সভাপতির এই ধরণের আচরণ হলে দল চালানো মুশকিল”। যদিও বিধায়কের দিকেই তোপ দেগেছেন বনতোষ ঘোষ।

বেলডাঙা ১-  উত্তর ব্লক তৃণমূল সভাপতি  বনতোষ ঘোষ এদিন  বলেন,  “ পঞ্চায়েতের ক্যান্ডিডেটের সঙ্গে কত টাকা টিকিট দেবে, পঞ্চায়েত সমিতি কত দেবে সমস্ত কথা  নোটশিট করা আছে । এমএলএ বলেছে,  আমি এই টাকা করে নেব আমার বিধানসভা ভোটে খরচ হয়েছে” । বনতোষের দাবি, এসব কথা বিধায়ককে বলতে বারণ করেছিলেন তিনি।

পাল্টা তোপ বনতোষের

বিধায়কের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন বনতোষ। তিনি বলেন,   “ আমাকে  ব্লক সভাপতি থেকে সরানোর জন্য দীপকের (দীপক মন্ডল)  কাছ   থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল।  তাঁকে সভাপতি করতে পারেনি । সে জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছে এটা সবাই জানে” । পঞ্চায়েত সমতিরি সভাপতির বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনেছেন বনতোষ।