বিসর্জনের বহরমপুর যেন আস্ত নাইটক্লাব, ভাসানে ভ্যানিশ ঢাকের আওয়াজ

দেবনীল সরকারঃ কখনও চিকনি চামেলী বা কখনও শিলা কি জওয়ানি বা অ্যালকোহোলিয়াআ আ আ… নেই কাশ লাগানো ঢাক। নেই ধুনুচি।আইলা রে আইলা আ…   নাগিন ড্যান্সে মেতেছে শহরের ভাসান।

গোরাবাজার থেকে সৈদাবাদ, গঙ্গার ধার বরাবর চলছে ভক্তদের উদ্দাম নৃত্য – এই একটাই রাত।পাড়ার সবাই ঘামতে ঘামতে নেচে চলেছে। বাজি ফাটছে শহরের আকাশে। গঙ্গার ধারে অনবরত হেঁটে চলেছে মানুষ।

ভাসানের নাচ

 

শহরে আজ দশমী নাইট। শহরবাসীর প্রাণে  ভাসানের আনন্দ রয়েছে ভরপুর। তবে লোপ পেয়েছে ভাসানের আদি ভাষা, ঢাকের বোল  । গত ১০ বছরে আমাদের ভর করেছে  ডিজে স্পিকার (এক মানুষ লম্বা ইলেকট্রনিক স্পিকার, মূলত বড়ো কনসার্টে ব্যবহৃত হয়)। আগে , ভাসানে ঢাকের আওয়াজ রাস্তাজুড়ে ধুনুচির গন্ধে মম দশমীর রাত মনে করতে খুব বেশি কষ্ট হবে না যদিও। তবে এখন মা’কে মূলত ডিজে স্পিকারের মাধ্যমেই বিদায় জানানো হয়। কোথাও কোথাও হচ্ছে অর্কেস্ট্রা।

জেলার বিভিন্ন  প্রান্তে হয়তো এখনও মায়ের ভাসান হচ্ছে ঢাকের আওয়াজে, ধুনুচির গন্ধে, নির্বিঘ্নে। কিন্তু আধুনিক হয়েছি আমরা শোনার কান, নাচের গান এসবেরই ক্রমোন্নতি হয়েছে । যদিও শহরের বুকে এখনও একটিও নাইটক্লাব নেই।  তাই এক তুড়িতে  গোটা শহরটাই হয়ে উঠেছে  নাইট ক্লাব ।