পঞ্চায়েতে লড়াইয়ের ডাক দিয়ে ইসলামপুর থেকে হুঙ্কার সেলিমের

মধ্যবঙ্গ নিউজ ডেস্কঃ পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াইয়ের ডাক দিয়ে ইসলামপুর থেকে হুঙ্কার সি.পি.আই.এম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের। প্রকাশ্য সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শুরু হল এই সম্মেলন। রবিবার ইসলামপুরে প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, খেতমজুর সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অমিয় পাত্র, সভাপতি তুষার ঘোষ ও সি.পি.আই.এম -এর দলীয় নেতৃত্বরা। জনগনের উদ্দেশ্যে পঞ্চায়েত গড়ার ও গরীব মানুষদের ১০০ দিনের কাজ আদায় করা সহ খেতমজুরদের বিভিন্ন দাবিতে সোচ্চার হন মহম্মদ সেলিম সহ দলীয় নেতৃত্ববৃন্দ। এদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন সি.পি.আই.এম এর জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা, জামাল হোসেন, ইকবাল হক সহ দলীয় নেতৃত্বরা। এদিন সমাবেশ থেকে পঞ্চায়েতে লড়াইয়ের ডাক দেন মহম্মদ সেলিম।

নভেম্বর মাসে সারা রাজ্যজুড়ে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে বামেদের। এদিন মঞ্চে সেলিম বলেন, লাঠির ভয় দেখিয়ে মানুষকে চুপ রাখতে পারবে না পুলিশ। শ্রীলঙ্কার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন ওখানকার রাষ্ট্রপতি জনগণের ভয়ে দেশছাড়া হয়েছে। পঞ্চায়েত প্রধান চুরি করে পালাতে পারবে না। সেলিম বলেন, “আমরা পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছি। প্রধান সদস্য সবাইকে কাজের হিসাব দিয়ে হবে। কত পেলে? আর কত খেলে? হিসাব দাও। হজম করতে পারবে না। ঢেঁকুর তুলতেই হবে নইলে বমি করতে হবে।”

তৃণমূল ও বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ওরা সবাই এক জোটে মানুষকে ধোকা দিচ্ছে। বামেদের লড়াই এর বিরুদ্ধে। সেলিম জনতার উদ্দেশ্যে হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, “আমরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়েছি, তেভাগাতে লড়েছি, কংগ্রেসের অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়েছি আর এখন তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছি। আমরা আঁখ পেষার মেসিন তৈরি করেছি। কাউকে ছাড়ব না সবাইকে নিঙরে খেটে খাওয়া মানুষের সব টাকা বার করব।” পুলিশের উদ্দেশ্যে সেলিম বলেন, পুলিশকে সাবধান করছি, আইন মেনে চলো। তৃণমূলের পা চাটা বন্ধ করো। পার্শ্ববর্তী দেশ শ্রীলঙ্কার প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, তোমাদের গাড়িতে যাতে লাথি না মারতে হয়। সাবধান হও। সাধারণ মানুষের ধৈর্য পরীক্ষা নিও না।

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করে মহম্মদ সেলিম বলেন,” উনি তৃণমূলের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে বলেছিলেন মেদিনীপুরে লালঝাণ্ডা নাকি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন সে তৃণমূল ছেড়ে পদ্ম হয়ে অমিত শাহের চেয়ার মুছছেন। আর লালঝাণ্ডা জাগছে। হাজার হাজার মানুষের রক্তে রাঙ্গা লালঝাণ্ডা শেষ হয়ে যায়নি, হবে না কখনও।”

এদিনের ইসলামপুর নেতাজি পার্কের ময়দানে বামেদের এই সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উচ্ছ্বসিত জনতা সমাবেশ থেকে সেলিমের সাথে গলা মিলিয়ে ‘লড়াই হবে’ ধ্বনিতে মাঠ কাঁপিয়ে তোলেন।