নিরাপত্তাহীনতায় শহরের চিকিৎসকেরা ! রাতের আঁধারে এসে ডাক্তারের বাড়ি ভাঙচুর করল একদল দুষ্কৃতী।

Madhyabanga News :শুক্রবার ভোর রাতে নতুনবাজার এলাকায় একদল দুষ্কৃতি হামলা চালায় ডাক্তার দীপায়ন তরফদারের বাড়িতে। রাতের অন্ধকারে ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকে করে সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করে, চক্রান্ত করে হামলা করা করা হয়। বাড়ির দরজা ও জানালার কাঁচ ভেঙে ভিতরে ঢুকে নীচতলার চেম্বার তছনছ করে তারা। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ডাক্তারমহলে।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে নিগ্রহের পর এবার শহরের চিকিৎসকের বাড়িতে হামলা হল বহরমপুরে। এতে করে বলাই যায়, জেলার ডাক্তারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়েছে। এই ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। প্রতিবেশী শর্মিষ্ঠা তরফদার বলেন, ” এই ধরণের ঘটনা এর আগে ঘটেনি এলাকায়। খুবই দুঃখিত ও একই সাথে আতঙ্কিত। প্রশাসন যেন শীঘ্রই এর ব্যবস্থা নেয়। ”

আই.এম.এ জেলাশাখার সম্পাদক ডাঃ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “ এই ঘটনার পূর্ব প্রেক্ষাপট রয়েছে, যা প্রায় দু’সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছে। গত ১৩ ই অক্টোবর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে তাঁর দপ্তরে নিগ্রহ ও শারীরিক হেনস্থা করা হয়। তার কিছুদিন পর, ২০ শে অক্টোবর দুপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত এক জুনিয়ার ডাক্তারকে নিগ্রহ করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় স্ত্রী ও প্রজনন বিশেষজ্ঞ ডাঃ দীপায়ন তরফদারের চেম্বারে সংগঠিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। তারপর আজকের এই ঘটনা।“

এইভাবে জেলায় একের পর এক ডাক্তার হেনস্থার ঘটনায় আতঙ্কিত ডাক্তারমহল। ডাঃ ভট্টাচার্য বলেন, “২০ শে অক্টোবর রাতে জেলার প্রায় ২৫ জন স্বনামধন্য ডাক্তার সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়ে দেখি, তিনি একটি রুগীর পরিবার দ্বারা ঘেরাও হয়ে আছেন। সেখানে একজন প্রসূতি মহিলার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বচসা হয়। যে মহিলাকে আনুমানিক ৩ মাস পূর্বে তিনি চিকিৎসা করেছিলেন। সেখানে ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করে রুগীর পরিবার। সেই সময় পৌরপিতা উপস্থিত ছিলেন। ঘেরাও মুক্ত হচ্ছে না দেখে আমরা পুলিশের সাহায্য নিই। সেদিনের মতো ঘটনার মীমাংসা হয়। তবে সেদিন হুসিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে, এর পরিণতি ভাল হবে না। পরদিনই ২১ শে অক্টোবর আই.এম. এ –এর পক্ষ থেকে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে চিঠি পাঠানো হয়। ডাঃ দীপায়ন তরফদারের চেম্বারে যাতে পুলিশি সুরক্ষা প্রদান করা হয়, এই মর্মে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে প্রশাসনের তরফে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপর গতকাল ভোররাতে ডাঃ তরফদারের চেম্বারে সুপরিকল্পিত ভাবে সিসিটিভি বিচ্ছিন্ন করে, চেম্বারের কাঁচের দরজা, জানালা ভেঙে তছনছ করা হয়েছে। এই পুরো ঘটনাটিতে আমরা ডাক্তারেরা ভীত।“

তিনি আরও বলেন, “ মুর্শিদাবাদ একটি সাংস্কৃতিক পীঠস্থান সেখানে যেন কোনও ভাবে এরকম সন্ত্রাসবাদী মানসিকতাকে প্রশ্রয় না দেওয়া হয়। আমরা জেলার ডাক্তারসমাজ এই ঘটনার পর ভীত, আতঙ্কিত। আজ সন্ধ্যায় আমরা আই.এম.এ –এর পক্ষ থেকে একটি মিটিং ডেকেছি। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে আমরা কর্মবিরতির পথে যাব। “

ডাক্তার দীপায়ন তরফদার জানান, “ আজ প্রায় ২০ বছর ধরে প্রাকটিস করছি। এরকম ঘটনা কোনও দিন ঘটেনি।“ চেম্বারের ওপর তলাতেই পরিবার নিয়ে বাস করেন তিনি। বাড়িতে রয়েছে স্ত্রী, কন্যা ও তাঁর বয়স্ক মা। এই ঘটনার পর রীতিমতো নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কিত রয়েছেন তিনি। সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করে এই তছনছের ঘটনার পর পুলিশে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনা স্থলে বহরমপুর থানার পুলিশ গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।