নভেম্বরে পদযাত্রায় দলে ফিরছেন মানুষঃ বহরমপুরে দাবি সেলিমের

দেবনীল সরকারঃ বহরমপুরঃ নভেম্বরজুড়ে রাজ্যে পদযাত্রা কছে সিপিএমের বিভিন্ন গণসংগঠন। সেই পযাত্রাতেই দলে ফিরে আসছে অনেকে। এবার টার্গেট পঞ্চায়েত।  বহরমপুরে এসে এই দাবি করলেন সিপিআই(এম)  রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম

রবিবার বহরমপুরে সিপিআই(এম)  এর জেলা দফতরে  সাংবাদিক সম্মেলনে সিপিআই(এম)  রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “ দুর্নীতি এই সরকারের প্রথম দিন থেকে চলছিলই আমরা বারবার সেকথা বলেছি, কিন্তু তা বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছিল না। সম্প্রতি যখন তৃণমূলের নেতাদের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকার পাহাড় বেড়ল তখন তা সামনে এল। নিলাম হয়েছে চাকরি। রাজ্যের মন্ত্রী, আমলা থেকে শুরু করে উঁচু ও নীচু তলার সবাই এই দুর্নীতির সাথে যুক্ত। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা ‘চর ধরো জেলে ভরো’ আন্দোলন শুরু করেছি” ।

সেলিম বলেন, ” গত ১ তারিখ থেকে আমদের লড়াইয়ে কৃষক, ক্ষেত মজুর, শ্রমিক, ছাত্র, যুব, পুরুষ ও মহিলা কর্মচারী সবাই যুক্ত হয়েছে। ভূমিস্তরে পদযাত্রা শুরু হয়েছে এলাকায় এলাকায়। গ্রামে, হাটে বাজারে, পাড়া মহল্লায়, আমরা মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করছি। মানুষ তাঁদের নিজেদের কথা বলছেন । গত জুন মাস থেকে আমরা বিভিন্ন স্তরে এই আন্দোলন সংঘবদ্ধ করেছি। ডিসেম্বরে মুর্শিদাবাদে আমাদের আরও কর্মসূচি আছে। আমরা ব্যাপক সারাও পাচ্ছি” ।

মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ানে পদযাত্রা বামেদের

সেলিম বলেন, ”  যারা আমাদের পাশে ছিলেন, কিন্তু মাঝে একটু মুখ ফিরিয়ে ছিলেন। কিছু সমস্যা হয়েছিল আমাদের জন্য বা তাঁদের নিজেদের জন্য। আমরা সেই ভুল বোঝাবোঝির অবসান করে সবাইকে দুহাত বাড়িয়ে এই আন্দলনে অংশগ্রহণ করিয়েছি। মানুষ এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের পাশে আসছেন। এমনকি যারা বিরোধী শিবিরে ছিলেন, তাঁরা এখন মনে করছেন তাঁরা ধোকা খেয়েছেন। অনেকে মনে করছিলেন, তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে। কিন্তু দেখা গেল মমতা ব্যানারজি গুজরাটের সম্প্রতি ব্রিজ ভেঙে দুর্ঘটনার পর মিডিয়াতে মুখে কুলুপ এঁটেছেন” ।

সেলিম আরও বলেন, ”  যারা সরকারী কর্মচারী, পুলিশ তাঁদেরই ডি.এ এখনও বকেয়া আছে। তাঁদের বেলায় সরকারের কাছে টাকা নেই। আর কোটি কোটি খরচ করে দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যাল হচ্ছে। পার্থ, মানিক, অনুব্রতদের যখন কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হচ্ছে তখন তৃণমূল আর নিজের দলের নামে কোনও সভা করতে পারছে না। তৃণমূলের যারা এখনও সৎ, দুর্নীতির সাথে যুক্ত নয়, তাঁরা ভাবছেন এ কোন দলকে আমরা নিয়ে এসেছি। আর অন্যদিকে মমতা – ভাইপো এরা সি.পি.আই.এম -কে গালাগালি করছে। ১৬ই আগস্ট তাঁরা বলেছিল, খেলা হবে। কিন্তু খেলতে পারেনি ওরা” ।

তৃণমূল, বিজেপি’এ  নিশানা করে মহম্মদ সেলিম এদিন বলেন, ” এখন ভোটের আগে তৃণমূল আবার গর্ত থেকে বেড়চ্ছে। যদিও গত মে মাসেই তাঁরা বুথ সম্মেলন শুরু করেছিল। কিন্তু তারপরেই হাওয়া হয়েছেন সকলে। এখন সবাইকে ওরা ক্ষমতার ভয় দেখাচ্ছে। তৃণমূল সরকারকে যারা সমর্থন করেছিল তাঁরা দুর্নীতির পর সরে গেছে। আর যারা আছে তাঁরা বুঝেছে তাঁদের মাথা নেই, পিঠও ঠেকেছে দেওয়ালে। তাঁরা এখন ইজ্জত বিসর্জন দিয়ে দল করছেন। বিজেপি তো আমাদের স্লোগান থেকে কর্মসূচি সবই চুরি করে। আমরা প্রতিবছর এই মাসে নভেম্বর বিপ্লবের কর্মসূচি নিয়ে থাকি। এবার নাকি বিজেপিও নভেম্বর বিপ্লব করবে। আর.এস.এস হিন্দু মুসলমানে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। তবে এটা স্পষ্ট করে বলা দরকার, বাংলার মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে চাই। তাঁরা হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা চাইনা। চাকরিপ্রার্থীদের নিয়েও দলাদলি, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে তাঁরা। বাংলার মানুষকে উর্দু, বাংলা, হিন্দি ভাষা দিয়ে ভাগ করা যাবে না। আসলে যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে চাই তাঁরা আমাদের সাথে এক হয়ে লড়বেন। আর যারা দুর্নীতি চালিয়ে যেতে চান তাঁরা মানুষকে ভাগ করতে চাইবেন। এই ভাগাভাগির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই” ।