তৃণমূল শূন্য পঞ্চায়েত ! দাবী গৌরীর

মধ্যবঙ্গ নিউজ ডেস্কঃ  রবিবার  ছিল তৃণমূলের কংগ্রেসের বহরমপুর সাংগঠনিক জনসভা। সেই সভা থেকে বক্তৃতা দেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, জেলার নেতা আবু তাহের খান, শাওনি সিংহ রায়,  বিধায়ক হুমায়ূন কবীর ও অন্যান্য নেতৃত্বরা। কার্যত এই সভা থেকেই পঞ্চায়েত ভোটের ঘণ্টা বেজে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে। এই সভার মঞ্চ থেকে বিরোধী শূন্য পঞ্চায়েত ভোটের হুঙ্কার দেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এর পাল্টা সোমবার  মুর্শিদাবাদ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক, গৌরী শঙ্কর ঘোষ তৃণমূলকে নিশানায় রেখে তোপ দাগলেন।

 

গৌরী  বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস চাইছে না  পঞ্চায়েত ভোট হোক। তারা কোনও দিন এ রাজ্যে সুস্থ ভাবে ভোট পরিচালনা করতে পারেনি। গত পঞ্চায়েত ভোটের প্রসঙ্গ টেনে এনে বিধায়ক বলেন, “২০১৮ সালের মতো এবারের পঞ্চায়েত ভোটেও যদি বিরোধীদের প্রার্থী দিতে না দেয়, তৃণমূলের দুষ্কৃতিরা বাধা দেয়, আর প্রশাসন যদি তার বাধা না দিয়ে তাদের দলদাস হয়ে এই নির্বাচনেও কাজ করতে চায় । তাহলে আমরা পথে নেমে আন্দোলন করব। আন্দোলন করলে রক্ত ঝরবে, বিজেপি রক্ত ঝরাতে ভয় পায়না। তৃণমূল চাইছে সন্ত্রাস। ওরা বোম মারবে, পুলিশকে দিয়ে গুলি চালানো করাবে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসাবে। কিন্তু তবুও আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়ব। যদি হিম্মত থাকে তাহলে রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করো। ভোটারকে নিজের ভোট দিতে দাও।”

 

বিধায়ক বলেন, আমরা তৃণমূলের পথ অনুসরণ করে,অস্ত্র হাতে নিয়ে গুণ্ডামি করতে চাইনা। এই তৃণমূলকে বাংলার মানুষ ঘৃণা করে। আরও বলেন, একথা সত্যি যে ‘তৃণমূলের টাইগার’ অনুব্রত মণ্ডল গরু পাচার কেসে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বালি পাচার, গরু পাচার, কয়লা পাচার সব মামলায় তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা যুক্ত। গরু পাচার করে সেই টাকায় অস্ত্র কিনে মানুষকে হত্যা করা হবে এই রাজনীতি আমরা মেনে নেব না। এই বেআইনি পাচার মামলায় অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।

 

গতকাল রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বহরমপুরের মঞ্চ থেকে বলেন, এবার বিরোধী শূন্য পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে। এর পাল্টায় গৌরী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “একথা থেকেই বোঝা যায় তৃণমূল এবারও সন্ত্রাস করে জিততে চাইছে। পুলিশ প্রশাসন, তৃণমূলের গুন্ডাদের ব্যবহার করে রাস্তায় সন্ত্রাস করে ভোট করবে ওরা। তাঁদের পায়ের নীচের মাটি নেই। গণতান্ত্রিকভাবে ভোট হলে বিরোধী শূন্য নয় বরং তৃণমূল শূন্য ভোটের ফল।”

 

মুর্শিদাবাদ বিধানসভার বিধায়ক, গৌরী শঙ্কর ঘোষ বলেন,বাংলার মানুষ তৃণমূল চাইছে না । তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘৃণা করে। তিনি দাবী করেন, বাংলার পুলিশ দিয়ে ভোট হবে না। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্বারা পরিচালিত হলে, তবেই ভোট সুস্থ ভাবে হবে। বাংলার মানুষ তৈরি আছে তৃণমূলকে পরাস্ত করতে।