গঙ্গা ভাঙন আতঙ্কে বিধ্বস্ত সামসেরগঞ্জের শিবপুর

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ধ্বংসস্তূপ, হাহাকার আর আর্তনাদে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। একটু একটু করে গঙ্গার গ্রাসে চলে যাচ্ছে গ্রাম। তলিয়ে যাচ্ছে ঘর বাড়ি, জমি জায়গা। সর্বশান্ত হচ্ছেন গ্রামবাসীরা। গঙ্গায় জল বাড়ার সাথে সাথে সামসেরগঞ্জের প্রতাপগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত শিবপুর গ্রামের ভাঙালাইন পাড়ায় শুরু হয়েছে ভয়াবহ গঙ্গা ভাঙন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকেই ভাঙতে শুরু করেছে নদী পার। গঙ্গার তাণ্ডবে বেশ কয়েকটি আস্ত বাড়ি তলিয়ে গিয়েছে, গঙ্গায় বিলীন হয়েছে বসত ভিটে, ধুলিস্যাত হয়েছে রাস্তা, ছাড় পায় নি সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর ক্যাম্পও। বিএসএফ এর তৎপরতায় ঘুম ভেঙে কোনরকমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচে গ্রামবাসীদের। চোখের সামনেই তলিয়ে যায় সর্বস্ব।

দিনের আলো ফোঁটার সাথে সাথেই নদী পারের মানুষজন অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার খোঁজ শুরু করেছেন।

গ্রামবাসীরা বলছেন, কষ্টে কোনরকমে পয়াকা বাড়ি তৈরি করেন, সেই কষ্টের পরিশ্রম আজ ভেঙে গুড়িয়ে দিতে হচ্ছে। কোথায় যাবেন পরিবার নিয়ে? জানেন না।

বিগত ২৫ দিন ধরে ভাঙন আতঙ্কে ঘুম উড়েছে শিবপুর গ্রামের বাসিন্দাদের। গত ২৭ শে অগাস্টও ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছিল। ক দিন জেতে না যেতেই আবারও শুরু হয়েছে তাণ্ডব। ভাঙন থেকে প্রাণে বাঁচতে পাকা ইটের দোতলা বাড়িও আগেভাগেই ভেঙে ফেলেছেন অনেকেই। ভাঙন দুর্গতরা বলছেন, ভাঙন রোধে সাময়িক বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে। কিন্তু তাতে সমাধান হচ্ছে না। সর্বশান্ত হয়ে দিশেহারা গ্রামবাসীরা।

পরিবার পরিজন নিয়ে নিঃস্ব হওয়া গ্রামবাসীদের চাওয়ার শুধুই পুনর্বাসন। ভাঙনের সর্বহারা মানুষজন চাইছেন একটু সহায়তা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে গোটা গ্রাম যেন বিধ্বস্ত। ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসেন ব্লক প্রশাসনের কর্তারা। সামসেরগঞ্জ ব্লকের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম অফিসার বলেন, ত্রান বিতরণ করা হচ্ছে। যে বাড়ি ভাঙছে তার নথি সরকারের কাছে পাঠানো হবে।