করোনা কালে জৌলুসহীন শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মার আরাধনা

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ করোনা আবহের মধ্যেই আসছে উৎসব। ১৭ ই সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো, আবার দেবী পক্ষের সুচনাও। জোড়া উৎসবেও মুখ ভার শহরের। কারণ একটাই, করোনাময় পরিস্থিতি। করোনার থাবায় এবছর জৌলুসহীন বিশ্বকর্মা পুজো। শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মার আরাধনায় প্রত্যেক বছর যেভাবে আম বাঙালি মেতে ওঠেন, এবছর সেই আয়োজনে ভাটা পড়েছে। এই করোনাময় পরিস্থিতির কারনে মুর্শিদাবাদ জেলার সদর শহর বহরমপুরে এবছর বিশ্বকর্মা পুজোর প্রস্তুতিও ম্লান। ঘটা করে পুজো নয়, ছিমছাম পূজার্চনা হবে স্রেফ। প্রত্যেক বছর শহর জুড়ে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন কয়েক আগে থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায় পুজো উদ্যোক্তাদের। বড় প্যান্ডেল হয়, আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয় রাস্তাঘাট, পুজোর উদ্বোধনও হয়ে যায় একদিন আগেই, এবছর সেই জাঁকজমক, জৌলুস কোথাও হারিয়েছে। পুজোর আগের দিন চলে মণ্ডপ তৈরির কাজ। নম নম করে ঘরোয়া পুজোর আয়োজন (CITU) জনপথ পরিবহন মজদুর ইউনিয়নের। দীর্ঘ ২২ বছরের পুরনো বিশ্বকর্মা পুজোকে ঘিরে এবছর কোন আড়ম্বর নেই, কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে না।

আই এন টি ইউ সি অনুমোদিত মুর্শিদাবাদ জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের পুজোর এবছর ৩৬ তম বর্ষ। করোনা আবহে শুধুমাত্র পুজোই হবে, হবে প্রসাদ বিতরণ.

এবছর ৬ বছরে পা দিল মুর্শিদাবাদ জেলা তৃনমূল টাক শ্রমিক ইউনিয়নের বিশ্বকর্মা পুজো, প্রত্যেক বছরের মতো নয় এবছর শ্রমিকরা চাঁদা তুলে ছোট করে পুজো সারছেন। বসছে না কোন মেলা, হচ্ছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

২য় তম বর্ষে ভারতীয় জনতা পার্টি অসংগঠিত শ্রমিক সংগঠনের বিশ্বকর্মা পুজো। করোনা আবহে এবছর নম নম করেই পুজো হবে, জানালেন সংগঠন সদস্য।

একদিকে করোনা আবহ, অন্যদিকে করোনা বিধিকে মান্যতা এবং আর্থিক সংকট- সব নিয়েই এবছর বহরমপুর শহরের অন্যতম বড় শ্রমিক সংগঠনগুলির বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন ম্লান, মুখ ভার সকলেরই।

স্পেশ্যাল রিপোর্ট, মধ্যবঙ্গ নিউজ