একলা ‘জঙ্গীপুর ভবন’ রয়ে গেল একরাশ উজ্জ্বল স্মৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ সালটা ২০০৪, প্রথম জনতার ভোটে জেতার স্বাদ পেয়েছিলেন, এই জঙ্গীপুরই তাকে পাঠিয়েছিল লোকসভায়। তারপর ২০০৯ এ আরও একবার জয় এসেছিল লক্ষাধিক ভোটে। তিনি নিজেই বলতেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জঙ্গীপুরই তাকে শিকড় দিয়েছে। বারবার ছুটে এসেছেন মুর্শিদাবাদে। সর্বদা হাসি মুখে উৎসাহিত করেছেন সকলকে। উজ্জীবিত করেছেন তরুণ যুবদের। জঙ্গীপুর ছিল তাঁর অত্যন্ত কাছের, এই জঙ্গীপুরই ছিল তাঁর দ্বিতীয় বাড়ি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দিল্লির বাইরে জঙ্গিপুর আর জঙ্গীপুর ভবন ছিল প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা জঙ্গিপুরের প্রাক্তন সাংসদ প্রনব মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত কাছের জায়গা। রঘুনাথগঞ্জ শহরে ঢোকার আগেই মিয়াপুর মোড় থেকে বাদিকে বেশ কিছুটা এগিয়ে দেউলি গ্রাম। শান্ত সেই পাড়া গ্রামে দাড়িয়েই গড়েছিলেন আস্তানা- নাম দিয়েছিলেন জঙ্গীপুর ভবন। কয়েক বিঘা জমির ওপর খোলামেলা দোতলা বাড়ি।

জঙ্গীপুরের মানুষজন অনেকটা অভিভাবকের মতোই তাকে দেখতেন সুখে-দুখে বিপদে-আপদে। বিভিন্ন সময় জরুরি পরামর্শ নিতে আসতেন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে। প্রণব বাবুর তার ব্যস্ততম কর্মসূচির মাঝে আম জনতার দরবারে সামিল হতেন নির্দিষ্ট সময়ে। যখন জঙ্গীপুরে আসতেন বেশ কয়েকটা দিন তিনি থাকতেন। আম জনতার দরবারের পর অনেকটা সময় কাটতো বই পড়ায়, পূজার্চনায় অনেকটা মনোনিবেশ করতেন। প্রতিদিন সকাল বেলায় তিনি জঙ্গীপুর ভবনের যে বাগান রয়েছে সেখানেই হাটতেন। তার দলীয় কর্মী থেকে শুরু করে শুভানুধ্যায়ীরা সে কথাই বারবার বলছেন।

সব কিছুই আগের মতোই রয়েছে, সাজানো গোছানো আসবাব পত্র, সেই চেয়ার, সেই গ্রন্থালয়- শুধু নেই তিনি। আর কোনদিন তিনি পা রাখবেন না এই জঙ্গীপুর ভবনে, শুধুই রয়ে গেল হাজারো স্মৃতি। ৩১ শে অগাস্ট- সন্ধ্যে নামার সাথে সাথেই এই ভবনেও যেন নেমে আসে এক নিস্তব্ধতা। আশেপাশের সকলেই- দুসংবাদ পেয়ে একপ্রকার নিশ্চুপ। সাংসদ থেকে রাষ্ট্রপতির পদে উত্তরণ- আর এই উত্তরনের মাঝেই রয়ে গেল একারাশ উজ্জ্বল স্মৃতি। ভারাক্রান্ত মনে সেই স্মৃতিচারণায় জঙ্গীপুরবাসী।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরেও জঙ্গীপুর ভবনে এসে থেকেছেন তিনি। দেখা করেছেন শুভানুধ্যায়ীদের সাথে। আজ সেই ভবন যেন মুহ্যমান। মনখারাপ দেউলি গ্রামের মানুষদের। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখোপাধ্যায়দের প্রয়াণে শোকাহত জঙ্গীপুরবাসী।