উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ শান্তিতে শুরু হলেও দুপুরে ঝামেলার আশঙ্কা বিরোধীদের, গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল

মধ্যবঙ্গ নিউজ, সাগরদিঘিঃ বিক্ষিপ্ত দু-একটি ঘটনা ছাড়া সোমবার নির্বিঘ্নেই শুরু হল সাগরদিঘির ভোটগ্রহণ পর্ব। যদিও দুপুরে ঝামেলার আশঙ্কা রয়েছে বিরোধীদের, গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল।
সকালে বাড়ালার ২১০,২১১ নম্বর বুথে কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাসের বুথে ঢোকার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের কর্মীরা। যদিও নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়েই তিনি বুথে ঢুকেছিলেন বলে জানান কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস। এদিন তিনি বলেন, “প্রার্থীর সব বুথে ঢোকার অধিকার আছে। তৃণমূল ঝামেলার জন্য ইস্যু খুঁজছে। পাচ্ছে না তাই এসব করছে।” তবে যত সময় গড়াবে তত ঝামেলা হবে বলে আশঙ্কা করলেন সাগরদিঘির কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস। এদিন তিনি বলেন, “ সব জায়গায় আমরা এজেন্ট দিয়েছি। এখনও পর্যন্ত কোথাও ছাপ্পা ভোট পড়ে নি। তবে দুপুরের পর একটা ঝামেলার আশঙ্কা রয়েছে।” সঙ্গে যোগ করেন, “ কাল রাতে প্রচুর টাকা বিলি করা হয়েছে। প্রচুর গুন্ডাবাহিনী ঢোকানো হয়েছে। ওদের ওপর কোনও ভরসা করা যায় না। ওরা ঝামেলা করবে।”
একই আশঙ্কা করেছেন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ সাহাও। সামসাবাদের ২০৮ ও ২০৯ নম্বর বুথে ভোটপর্ব পরিদর্শন শেষে এদিন তিনি বলেন, “ দুপুরে মানুষের খাওয়া দাওয়ার সময় তৃণমুল ঝামেলা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। আমি আশা করবো গণতন্ত্রকে ধবংস না করার চেষ্টা করবে প্রশাসন।” কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোট পাহাড়ায় থাকা স্বত্তেও এমন আশঙ্কার কারণ কি?দিলীপের যুক্তি, “ গতকাল রাত থেকে বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস করেছে ওরা। বাইরে থেকে লোক এসেছে এখানে। আমাদের কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ করেও কোনও সুরাহা হয় নি।” ২০৮ নম্বর বুথে ভোট দিয়ে বেড়িয়ে তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, “ সকাল থেকে কোনও গন্ডগোলের খবর নেই। কোনও গন্ডগোল হবে না।” তিনি বলেন, “ আমাদের যে কর্মীরা আছেন তারাই ভোট করবে। বাইরে থেকে লোক আনার দরকার নেই।” এমনকি বুথে বুথে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী দিলেও ভোট শান্তিপূর্ণ হবে বলেও এদিন তিনি দাবি করেন।তিনি বলেন, “ সাগরদিঘির মানুষ আমাদের ছিল। আমাদেরই থাকবে। তারজন্য অন্য কোনও কিছুর ওপর আমাদের ভরসা করতে হয় না।” মকপোলে গন্ডগোলের জেরে ডাংরাইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৩ নম্বর বুথের প্রিসাইডিং অফিসারকে সরিয়ে দেয় কমিশন। রিপোর্ট তলব করা হয়েছে কমিশনের তরফ থেকে। বেলা সাড়ে ন’টা পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই চলছে ভোট পর্ব। প্রায় ১৪ শতাংশ ভোট পড়েছে এখনও পর্যন্ত।