উচ্চমাধ্যমিকেও আপত্তি স্বামীর। পুলিশের দারস্থ হয়ে পরীক্ষায় ফারাক্কার সুলতানা। সাবাশ মেয়ে

মিলন সরকারঃ ফারাক্কাঃ ২০২৩ এও একি ছবি ? উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় আপত্তি স্বামী, শ্বশুড় শ্বাশুড়ির। তবে বাধা টপকে পরীক্ষার হলে হাজির ফারাক্কার সুলতানা খাতুন। কার্যত পুলিশের সাহায্য নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন ফারাক্কার ছাত্রী সুলতানা খাতুন । এক বছর আগে ফরাক্কা থানার বিন্দুগ্রাম এলাকায় বিয়ে হয়েছিল তিলডাঙ্গার বাসিন্দা, তিলডাঙ্গা হাইস্কুলের ছাত্রী সুলতানার । মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা । মঙ্গলবার নিউ ফারাক্কা হাইস্কুলে বাংলা পরীক্ষা দেন সুলতানা । মঙ্গলবার ছিল ইংরেজি পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষায় মত ছিল না স্বামী, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের । পড়াশোনা আটকাতে, পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড লুকিয়ে রাখে স্বামী। দরজার তালা মেরে আটকে রাখা হয় পরীক্ষার্থীকেও। কিন্তু হার না মানা জেদ সুলতানারও । এদিন সাত সকালে কোনমতে পালিয়ে সটান ফারাক্কা থানায় হাজির হন সুলতানা। দারস্থ হন পুলিশের। জানান, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসা রুখতে অ্যাডমিট কার্ড লুকিয়ে রেখছে স্বামী, শ্বশুর শ্বাশুড়ি। লোপাট করা হয়েছে স্কুল ব্যাগ, স্কুলের ড্রেসও। আটকে রাখা হয়েছিল ঘরে তালা দিয়ে। কোনমতে পালিয়ে এসেছেন তিনি।

সুলতানার পাশে দাঁড়ায় ফারাক্কা থানার পুলিশও। বাড়িতে যান থানার ফারাক্কা থানার আইসি দেবব্রত চক্রবর্তী, সাথে ছিলেন মহিলা পুলিশ আধিকারিকরাও । দেখা যায়, বাড়িতে তালা মেরে চম্পট দিয়েছে গুণধর স্বামী। বাড়ির পাশেই এই বাগান থেকে উদ্ধার হয় স্কুল ব্যাগ। সেই ব্যাগেই ছিল পরীক্ষার অ্যাডমিট। পুলিশের গাড়িতেই এদিন সুলতানাকে আসেন পরীক্ষা কেন্দ্রে। পরিক্ষা দিতে পেরে খুশি সুলতানাও । সুলতানার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন ফারাক্কা থানার পুলিশ আধিকারিকরাও। সুলতানার জেদকে কুর্নিশ জানিয়েছেন ফারাক্কা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকও ।